বুধবার । ৮ই এপ্রিল, ২০২৬ । ২৫শে চৈত্র, ১৪৩২

বাবার হাতে কাটা জিয়াখাল পুনঃখননে যশোর আসছেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর

বাবা জিয়াউর রহমানের হাতে কাটা জিয়াখাল পুনঃখননের জন্য আগামী ২৭ এপ্রিল যশোরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল সোমবার রাত ৯টা ২০ মিনিটে ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ তথ্য জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

তিনি লিখেছেন, ‘সুসংবাদ!! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যশোরে আসছেন। (সম্ভাব্য তারিখ ২৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ নির্বাচনের পর এটিই হবে তার প্রথম যশোর সফর।’

জেলা বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই সফরকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে শহরের ঈদগাহ ময়দানে বিশাল জনসভার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

সূত্র জানায়, সফরকালে তিনি বহুল প্রতীক্ষিত যশোর ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন এবং শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত শার্শা উপজেলার উলসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন।

এ বিষয়ে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি এ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যশোর আসবেন এটি নিশ্চিত হয়েছে। সফরকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী উলশীতে তার বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নিজ হাতে কাটা জিয়াখাল পুনঃখনন ও ৫০০ শয্যার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উদ্বোধন করবেন। এরপর বিকেলে ঈদগাহ ময়দানে বিশাল সমাবেশে অংশ নেবেন।’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালে যশোর মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হলেও দীর্ঘ ১৫ বছরে এখনও হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়নি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য ৪ কিলোমিটার দূরে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়।

সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়ায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালু হলেও যশোরে না হওয়ায় ক্ষোভ ছিল স্থানীয়দের। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন, যা এই অঞ্চলের চিকিৎসাসেবায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির আলোকে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছেন। এরই অংশ হিসেবে তিনি শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করবেন। ৫০ বছর আগে ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহিদ জিয়াউর রহমান নিজ হাতে কোদাল নিয়ে এই খালের খনন কাজ শুরু করেছিলেন, যা ইতিহাসে ‘উলশী-যদুনাথপুর প্রকল্প’ বা ‘জিয়াখাল’ নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া এই খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় প্রাণ ফিরে আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় জনগণ।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন